রাজনীতি ডেস্ক
ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তাঁর সহধর্মিণী মানু ভার্মার আমন্ত্রণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলকে স্বাগত জানান। এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস দেশটির অন্যতম জাতীয় দিবস হিসেবে প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি পালিত হয়। ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় এবং দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের এ আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এবারের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনীতিক, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বিদ্যমান। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এ সম্পর্কের একটি প্রচলিত দিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
এ ধরনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রথাগত রূপ, যেখানে পারস্পরিক সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
অনুষ্ঠানটি ছিল আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে আয়োজিত। এতে বক্তব্য, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে কূটনৈতিক রীতি ও আনুষ্ঠানিকতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ ধরনের আয়োজন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পারস্পরিক যোগাযোগের একটি নিয়মিত ক্ষেত্র তৈরি করে।


