রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসনের উপস্থিতির মধ্যেও যদি কোনো পক্ষ ভোট কারচুপির চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের জীবনপুর গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনি পদযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল।
সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যে কোনো প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। তিনি ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষা করা নাগরিকদের দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালনে জনগণের সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য।
নিজ জন্মস্থান রসুলপুর ইউনিয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ইউনিয়নের সঙ্গে তার পারিবারিক ও আবেগগত সম্পর্ক রয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, রসুলপুর ইউনিয়নে প্রায় ২২ হাজার ভোটার রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করলে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব।
নারী ভোটারদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ভোটের পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি নারী ভোটারদের নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন।
এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদুল ইসলাম নাহিদসহ এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা নির্বাচনী পরিবেশ, সংগঠনের কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়েছে। পদযাত্রা, পথসভা ও ছোট আকারের সমাবেশের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের বক্তব্যে ভোট কারচুপির আশঙ্কা ও তা প্রতিরোধের আহ্বান নির্বাচনী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের সচেতন উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী আলোচনায় ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নতুন করে সামনে আনে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচির পাশাপাশি বাস্তবে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ঘিরে চলমান এই আলোচনা ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দেবিদ্বার উপজেলায় ভোটের প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।


