রাজনীতি ডেস্ক
যশোরে কারাবন্দি এক ছাত্রলীগ কর্মীকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তানের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারা ব্যবস্থাপনায় মানবিক বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন ঢাকা-১৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ ‘সি’ ব্লক এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
গণসংযোগে আমিনুল হক বলেন, যশোরের ঘটনাটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক উদাহরণ, যা কারাবন্দিদের ক্ষেত্রে প্যারোলসহ বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার মানবিক প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যের মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতেও অনেক বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় ভবিষ্যতে আর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্যারোল হলো নির্দিষ্ট শর্তে ও সীমিত সময়ের জন্য কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার একটি আইনগত ব্যবস্থা, যা সাধারণত গুরুতর পারিবারিক বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে প্রয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারোল আবেদন নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। যশোরের ঘটনাটি সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমিনুল হক পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্ন আয়ের মানুষের এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি প্রধান উদ্বেগ—উচ্ছেদ আতঙ্ক—নিরসনের বিষয়টি সামনে আনেন। নির্বাচিত হলে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে এই আতঙ্ক দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবহেলিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন।
এলাকার আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচিত হলে আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। নগর ব্যবস্থাপনায় জলাবদ্ধতা একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ হওয়ায়, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কেউ শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। প্রতিটি ঘরে বিনা মূল্যে মৌলিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এসব সেবার প্রাপ্যতা বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পল্লবী-রূপনগর গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।
গণসংযোগকালে আমিনুল হকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থীদের প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং জাতীয় পর্যায়ের নীতি-অবস্থান ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


