আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করলে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে চুক্তি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য প্রবাহিত করার জন্য নিজেদের বন্দর ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি গুরুতর হবে। ট্রাম্পের ভাষ্য, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যদি মনে করেন যে তারা চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহের একটি মাধ্যম হিসেবে দেশটিকে ব্যবহার করতে পারবে, তাহলে এটি একটি বড় ভুল হবে।
কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ২০২৪ সালে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে পুনঃপ্রবেশের পর থেকে টানাপোড়েনপূর্ণ। বাণিজ্য, শুল্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি বেইজিং সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি চীনের সঙ্গে একটি “নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব” প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। সেই সফরে শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে একটি “প্রাথমিক কিন্তু ঐতিহাসিক” বাণিজ্য সমঝোতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প এই সমঝোতার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, চীনের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কানাডাকে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, চীন কানাডার ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো ও জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প কার্নিকে “গভর্নর” সম্বোধন করে, যা কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখানোর আগের মন্তব্যের ইঙ্গিত বহন করে।
এই হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ স্পষ্ট করেছেন যে, চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পেছনে কানাডা নেই। তিনি বলেন, বেইজিং সফরে সম্পন্ন চুক্তিটি মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোস সম্মেলনে কার্নির বক্তব্যের পর ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন এবং পরে নিজস্ব ‘বোর্ড অব পিস’-এ কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বাতিল করেন। 이에 পাল্টা জবাবে কার্নি বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে নেই; আমরা টিকে আছি কারণ আমরা কানাডিয়ান।” তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারিত্বের কথাও স্বীকার করেন।
কানাডার অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশের বেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। বিশেষ করে গাড়ি, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাত খাত ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাব ইতোমধ্যেই অনুভব করছে। চলতি বছরের শুরুতে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আলোচনারও প্রস্তুতি রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কানাডার রপ্তানি নির্ভর দেশ হওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব সরাসরি তার অর্থনৈতিক প্রবাহে প্রতিফলিত হবে। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এবং কার্নির প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরও জটিল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রবেশ করছে।


