১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের বিজয়ের আহ্বান এলডিপি সভাপতির

১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের বিজয়ের আহ্বান এলডিপি সভাপতির

রাজনীতি ডেস্ক
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ধুপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে। তার মতে, একটি নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনগণকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বৈষম্য বিরাজ করছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং বিবেক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর পরিচয় তুলে ধরা হয়।

অলি আহমদ তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন এবং স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশের লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই লক্ষ্য থেকে দেশ অনেকাংশে সরে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর শাসনামলে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনগণ অতীতে বিভিন্ন দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, কেবল নাম বা প্রতীক দেখে ভোট না দিয়ে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত ভূমিকা ও দেশের স্বার্থে তাদের পরিকল্পনা বিবেচনা করা উচিত।

সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের অভাবের কথা উল্লেখ করে এলডিপি সভাপতি বলেন, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ায় বৈষম্য কমিয়ে আনা জরুরি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সংস্কার ও নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমননীতির সমালোচনা করেন এবং বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন আনাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।

বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অলি আহমদ বলেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। তার মতে, এসব আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এই চেতনা বাস্তবায়নে নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের উচিত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা। অন্যথায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক দুর্বলতা বাড়তে পারে। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এই জোট দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ