রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গত ১৬ মাসে দেশে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তা পূর্ববর্তী দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক নিপীড়নের একটি নতুন রূপ। তিনি দাবি করেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে এসেছে এবং এসব ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে। তার বক্তব্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংস্কার, সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহিংসতার পরিবর্তে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনই হলো সেই শান্তিপূর্ণ পথ, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব সমস্যা নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, তথাকথিত ‘ব্যালট বিপ্লব’-এর লক্ষ্যে দেশের মুক্তিকামী রাজনৈতিক শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠন করেছে। তিনি বলেন, এই জোটের লক্ষ্য হলো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কার আনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং তারা সবাই জনগণের কাছে তাদের কর্মসূচি তুলে ধরছেন।
পথসভায় তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে। তিনি বলেন, ভোটারদের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করবে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐক্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন শাগুপ্তা বুশরা মিসমা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল হক, ফরহাদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণের জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিন। বক্তারা নিজ নিজ বক্তব্যে নির্বাচন, রাজনৈতিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
পথসভায় উপস্থিত নেতারা জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে জনসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।


