রাজনীতি ডেস্ক
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল ও বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে সমাবেশস্থলে সমবেত হন।
সকালের দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, জনসভাস্থলে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত তদারকি করছেন। নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, মনোগ্রামযুক্ত ব্যাচ, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও মাফলার পরে সমাবেশে উপস্থিত হন।
কুমারখালী থেকে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, দলীয় প্রধানকে দেখার সুযোগটি তারা হাতছাড়া করতে চাননি। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত। অতীতে বিভিন্ন জেল জুলুম সহ্য করেছি। আজ এই জনসভায় আমাদের নেতা সরাসরি দেখতে পারছি।”
শহর যুব বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ জানিয়েছেন, জনসভায় দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম আশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এ জনসভা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
জনসভা চলাকালীন মঞ্চ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাবেশস্থলসহ আশেপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী ভবনে তার ছবি এবং দলের প্রতীক সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে।
এই নির্বাচনী সফরে ডা. শফিকুর রহমান সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণের পর দুপুর ১২টায় মেহেরপুর, বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা এবং সন্ধ্যা ৬টায় ঝিনাইদহে নির্বাচনী মহাসমাবেশে অংশ নেন।
জনসভা ও সফরের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কুষ্টিয়ায় এ ধরনের সমাবেশ জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


