ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের সমালোচনার ঝড় জামায়াত নেতার মন্তব্যে
ঢাকা — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার রাত ৯টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শামীম আহসানের মন্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের অবমাননা করা হয়েছে। বরগুনার এই নেতা পূর্বে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একসময় বেশ্যাখানা ও মাদকের আড্ডা ছিল।” এ বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে উত্তাল হন এবং এর সঙ্গে কূটনৈতিক শিষ্টাচারহীনতার অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভে একজন নারী শিক্ষার্থী বলেন, “আমার দেশের নারীরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীরা কীভাবে ‘বেশ্যা’ হতে পারে? এমন মন্তব্যের জন্য তার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলা উচিত।”
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ডাকসু নেতৃত্ব ক্যাম্পাসে যথাযথ সময় দেন না এবং কার্যক্রমের বদলে সাংগঠনিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “ডাকসু শুধু চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠান আয়োজন করে, কিন্তু নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করার দায়িত্ব তারা পালন করছে না। আমাদের ভোট এই জন্য দেওয়া হয়নি।”
এর আগে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার মন্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দেশের একটি প্রভাবশালী শিক্ষার্থীবাহী সংগঠন। এটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সমাজ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও প্রতিবাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারকে সম্মান করা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি অমর্যাদাকর মন্তব্য এ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগজনক। তারা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবেন।
জানা গেছে, শামীম আহসানের মন্তব্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দ্রুত তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টিকে নজরদারি করছেন এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ দেখাচ্ছে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্তভাবে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে সক্ষম।


