নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সোমবার ঢাকা মেডিকেলের সামনে প্রচারের সময় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক প্রভাব সৃষ্টি করছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, একই সময় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে রাজধানীর রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকল দুর্নীতি মামলার বিচারের দাবি জানান। তার মতে, এ ধরনের মামলাগুলো তৎকালীন সময়ের সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, যা জনমতের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।

প্রচারণার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপর হামলার ঘটনাকেও উল্লেখ করেন। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্তযোগ্য নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান এবং রাজনীতি থেকে সহিংসতা পরিহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এ অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের আচরণের প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনী তত্ত্বাবধায়ক সংস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, প্রার্থী এবং দলগুলোর মধ্যে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিরোধও ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে জানা যায়, স্থানীয় জনগণ প্রার্থীদের অভিযোগ এবং দাবির দিকে সতর্ক নজর রাখছে। বিশেষ করে দুর্নীতি, সরকারি সম্পদের অনিয়ম এবং নির্বাচনী সহিংসতা রোধের বিষয়গুলো ভোটারদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে সক্ষম।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করবেন বলে জানান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখার গুরুত্ব বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া, ভোটার সচেতনতা, প্রার্থীদের আচরণ এবং নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধের ব্যবস্থাও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ