রাজধানী ডেস্ক
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের জন্য কাজ করা একজন কর্মীকে মারধর ও প্রচারের সামগ্রী ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থক- কর্মীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র এবং লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রুয়া পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম (২৬) শুক্রবার সান্দিকোনা বাজারে একটি সিএনজিতে করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক সিএনজির পেছন থেকে হামলা চালিয়ে প্রচার মাইক ও সিএনজি ভাঙচুর করেন এবং তাকে মারধর করেন। আহত অবস্থায় আজিজুল ইসলামকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি আতিকুর রহমানের ছেলে।
আহত আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাইজোরা গ্রামের রুবেল মিয়া, খিদিরপুর গ্রামের মোতালেব মিয়া ও ডাউকি গ্রামের জুয়েল মিয়া সহ প্রায় ১৫ জন তাকে রড দিয়ে মারধর করে আটকে রাখে এবং প্রচার সামগ্রী ভাঙচুর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের রামপুর এলাকার চন্দনকান্দি গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- আশুজিয়া ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সম্পাদক মতি মিয়া, স্থানীয় কাশেম মিয়া ও সুজন মিয়া। অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে চন্দনকান্দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লিফলেট বিতরণের সময় রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল হামলা চালায়। এ সময় লিফলেটের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে নগদ টাকা ঢোকানো হয় এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সুমন মিয়া কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার তদন্তে জানা যায়, শনিবার কেন্দুয়া থানার এসআই নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দিয়েছেন। ভুক্তভোগী সুমন মিয়া জানান, পুলিশের সামনেই তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কেন্দুয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন, সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারে বাধা সৃষ্টি, মাইক ও সিএনজি ভাঙচুর এবং তার কর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, থানাপুলিশ ও সেনা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, তার দল ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সান্দিকোনা বাজারে সংঘটিত ঘটনাটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সংঘটিত হয়েছে এবং এটি নির্বাচনি সংঘাত নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকরা তার কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ঘটনা সাজিয়ে অভিযোগ দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর লিফলেট বিতরণের সময় নগদ টাকা বিতরণের বিষয়েও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করবেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি থানা-পুলিশকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


