রাজনীতি ডেস্ক
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে নিজেদের নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু করেছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জিপাড়ায় অবস্থিত শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য আহ্বায়ক ও যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী জোবাইরুল আরিফ এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে পদযাত্রা ও পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল এনসিপির। কর্মসূচির শুরুতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে কবর জিয়ারতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সূচিতে নেতাদের চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা থাকলেও দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রাপথে বিলম্ব ঘটে।
যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছাতে না পারায় কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। দলীয় পরিকল্পনায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের কথা থাকলেও, পথসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের অপেক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লোহাগাড়ায় অবস্থিত শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু করা হয়।
এনসিপির নেতারা জানান, শহীদদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্য থেকেই নির্বাচনি কার্যক্রমের শুরুতে শহীদদের কবর জিয়ারত করা হয়।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রা স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জোট প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়। পদযাত্রা ও পথসভাগুলোর মাধ্যমে দলের নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন দিক, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ওই সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন স্মরণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এনসিপিও সেই ধারাবাহিকতায় তাদের নির্বাচনি কর্মসূচির সঙ্গে স্মরণ কার্যক্রম যুক্ত করেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কবর জিয়ারত শেষে পদযাত্রা নির্ধারিত রুটে অগ্রসর হয় এবং পরবর্তী সময়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় নেতারা বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে একই ধরনের নির্বাচনি পদযাত্রা ও সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনি তফসিলকে সামনে রেখে দল ও জোটের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা জোরদার করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


