অন্তর্জাতিক ডেস্ক
সবকিছু অনুকূলে থাকলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ডের দল এই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ অর্জন করেছে।
স্কটল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেন, “অবশ্যই বাংলাদেশ দলের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। আমরা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে চাইনি। বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং আমাদের খারাপ লাগছে যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই মুহূর্তে অংশ নিতে পারছেন না।”
লিন্ডব্লেড আরও জানান, বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে সংক্ষিপ্ত সময়ে ভারতের ভিসা ও ফ্লাইটের বিষয়টি সম্পন্ন করা। বর্তমানে স্কটিশ দলের ক্রিকেটারদের জার্সি এবং অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ হয়ে গেছে।
স্কটল্যান্ড এবার গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল এবং প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে। কোয়ালিফাই করতে না পারা দলগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে এই সুযোগ স্কটল্যান্ডের হাতে এসেছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
বিশ্বকাপের এই অবস্থার প্রেক্ষিতে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্কটল্যান্ডের জন্য এটি চ্যালেঞ্জিং হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলীয় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশনাও বহন করছে।
বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে দল খেলোয়াড়দের ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভ্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বোর্ড এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের দলে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না পর্যন্ত দল কার্যত প্রস্তুত নয়।
বিশ্বকাপের এই প্রেক্ষাপটে স্কটল্যান্ড দল নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের সরে দাঁড়ানো নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই রূপান্তরিত পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা আশা করছেন, স্কটল্যান্ড দল তাদের র্যাঙ্কিং সুবিধা কাজে লাগিয়ে গ্রুপ পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পারফরম্যান্স উপস্থাপন করবে। তবে সীমিত সময় এবং প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জের কারণে এটি তাদের জন্য বিশেষভাবে কঠিন একটি পরীক্ষা হবে।


