মিটফোর্ডে নির্বাচনী গণসংযোগে বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক অংশগ্রহণ

মিটফোর্ডে নির্বাচনী গণসংযোগে বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক অংশগ্রহণ

রাজনীতি ডেস্ক

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা–৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লার নির্বাচনী গণসংযোগের সময় দুই বিদেশি নাগরিক অল্প সময়ের জন্য প্রচারণার স্লোগানে অংশ নেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়।

সোমবার বিকেল চারটার দিকে মিটফোর্ড এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা। তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা হাতে নিয়ে প্রচারণামূলক স্লোগান দিচ্ছিলেন। কর্মসূচির এক পর্যায়ে মিছিলের সামনে দুই বিদেশি নাগরিককে সেই স্লোগানে কণ্ঠ মেলাতে দেখা যায়। উপস্থিতদের ভাষ্যমতে, ওই দুইজনের একজন নারী ও অন্যজন পুরুষ।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি। সেই ধারাবাহিকতায় মিটফোর্ডসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। সোমবারের কর্মসূচিতে মো. এনায়াত উল্লা স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দোকানপাটে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। মিটফোর্ড এলাকার বড় একটি অংশ বাণিজ্যিক হওয়ায় প্রচারণার সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ এবং কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়।

প্রচারণার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা তার প্রচারণার অগ্রগতি সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি ভোটারদের মনোভাব নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যগুলো উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া হয় এবং তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

গণসংযোগ চলাকালে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণের ঘটনাটি নজরে আসার পর প্রার্থী নিজেও তাদের কাছে এগিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ তাদের সঙ্গে অবস্থান করেন। এ সময় আশপাশে পথচারী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। পরে ওই বিদেশি পুরুষ পর্যটক সাংবাদিকদের জানান, তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং বাংলাদেশে ভ্রমণে এসেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৌতূহলবশত তারা ওই সমাবেশের কাছে আসেন এবং অল্প সময়ের জন্য স্লোগানে অংশ নেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনগতভাবে সংবেদনশীল। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে বিদেশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণভাবে প্রচারণা, সমাবেশ বা স্লোগানে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছিল স্বল্প সময়ের এবং তারা পর্যটক হিসেবে দেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযোগ বা লিখিত আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি নজরে এলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও বিধি সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মত দেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মিটফোর্ডের ঘটনাটি নির্বাচনকালীন প্রচারণার একটি আলোচিত দিক হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ