গোপালগঞ্জে জামায়াত আমিরের নির্বাচনী প্রচারণা, সহিংসতামুক্ত ও ঐক্যের বাংলাদেশের অঙ্গীকার

গোপালগঞ্জে জামায়াত আমিরের নির্বাচনী প্রচারণা, সহিংসতামুক্ত ও ঐক্যের বাংলাদেশের অঙ্গীকার

 

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গোপালগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সহিংসতামুক্ত, বৈষম্যহীন ও ঐক্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব বক্তব্য দেন। প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাতে মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আরেকটি পথসভায়ও তিনি বক্তব্য রাখেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আগামীর প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, দল হিসেবে তারা একটি এমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়, যেখানে সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্বস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হতে পারে। তার বক্তব্যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, বরং জনগণের সেবা করার লক্ষ্যে রাজনীতি করতে চায়। তিনি আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, এসব চর্চা থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। তার মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালিত হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরবে।

তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি দোষারোপ, তোষামদি, মিথ্যাচার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হবে, যেখানে জবাবদিহি ও জনস্বার্থ প্রাধান্য পাবে।

সমাবেশে প্রতীকীভাবে দলীয় প্রার্থীর হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। প্রচারণা চলাকালে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতার চিত্রও ফুটে ওঠে। গোপালগঞ্জে জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ