চার বছর পর আইনি নিষ্পত্তিতে বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ

চার বছর পর আইনি নিষ্পত্তিতে বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ

সারাদেশ ডেস্ক

দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য এবং নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে। এ সময় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চেয়ারম্যান সংকটের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাওলানা সাইয়েদ আহমদ ‘চশমা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাথমিক ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী সময়ে উপজেলা পর্যায়ে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. সামছুল আলমকে ১১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করে।

নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ এনে মাওলানা সাইয়েদ আহমদ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলা দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ দেওয়ান মনিরুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফলে মাওলানা সাইয়েদ আহমদ ৪৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন।

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ পরবর্তী সময়ে আপিল দায়ের করে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর উচ্চতর আদালতে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে উচ্চতর আদালত জেলা আদালতের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এর ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয় এবং মাওলানা সাইয়েদ আহমদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম হয়।

চার বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি তদারকি এবং নাগরিক সেবা প্রদান কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে পূর্ণাঙ্গ জনপ্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।

শপথ গ্রহণের পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়েদ আহমদ সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চলা মামলার কারণে ইউনিয়নবাসী প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন এবং উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ফেরদৌসী বেগম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নির্বাচন বিভাগের কর্মকর্তারা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ