জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি)-তে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে তিনি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই এক্সপোতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ তৈরিতে চলমান উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে দেশের অগ্রযাত্রায় উদ্ভাবন ও গবেষণার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। তিনি বলেন, প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, দক্ষতা বৃদ্ধি, সাফল্যের উদাহরণ উপস্থাপন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই এই এক্সপোর মূল উদ্দেশ্য। প্রদর্শনীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ডিজিটাল ডিভাইস, সফটওয়্যার সমাধান, মোবাইল প্রযুক্তি এবং ই-স্পোর্টস সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিখাতে চলমান অগ্রগতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
চারদিনের এই এক্সপোর অংশ হিসেবে ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, অর্থায়নের সুযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের প্রাপ্যতা, ইনোভেশন ইকোসিস্টেমে বিদ্যমান ব্যবধান হ্রাস, ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী প্রযুক্তি ভিশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তর—এসব বিষয়ে পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনা থেকে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সমসাময়িক প্রযুক্তিগত প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে ও সরাসরি নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো ভেন্যুতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
বিভিন্ন শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই এক্সপোকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


