রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।
আজ সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেওয়ার সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সচিব জানান, মার্কিন প্রতিনিধি দল কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আসবে না। তবে মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি স্বাধীন দল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত হবে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন নয়; তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দল নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল। বিশেষভাবে তাদের আগ্রহ ছিল পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত প্রস্তুতির প্রতি। ইসি সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন তাদেরকে পোস্টাল ব্যালটের সার্বিক প্রস্তুতি এবং নমুনা ব্যালট দেখিয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দল পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে জটিল ও কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে কমিশনের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছে এবং সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে।
এছাড়া, বৈঠকে কোড অফ কন্ডাক্ট ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, কমিশনের ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল নির্বাচনী আচরণবিধি ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনার তদারকি করবে। মার্কিন প্রতিনিধি দল এই ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও সমন্বিত হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কেও তারা বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল। ইসি সচিব জানিয়েছেন, নির্বাচনী সময় প্রায় সাড়ে নয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মী বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্রস্তুতি শুনে মার্কিন প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তুষ্ট এবং একটি সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।
আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত), ইসি সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।


