বিনোদন ডেস্ক
ঢালিউডের খলচরিত্রে সুপরিচিত অভিনেতা এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগর রাজধানী ঢাকায় একটি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্র্যান্ড প্রমোশন ও জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উত্তরার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে আলাপকালে মিশা সওদাগর জানান, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি অসংখ্য প্রস্তাব পেলেও সব ধরনের ব্র্যান্ড উদ্বোধন বা প্রচারণায় যুক্ত হননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বিবেচনায় নিয়েই তিনি এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব এলেও অনেক ক্ষেত্রে তিনি সাড়া দেননি। এবারই প্রথম কোনো সিগনেচার লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও নীতিগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মিশা সওদাগর প্রায় আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি মূলত খলচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি লাভ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অভিনয়শৈলী ও উপস্থিতি ঢাকাই চলচ্চিত্রে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি শিল্পী সংগঠনের নেতৃত্বে থাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়েও তাঁকে নিয়মিত বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রসঙ্গের পাশাপাশি আলোচনায় আসে দেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মতামত দেন মিশা সওদাগর। তিনি বিসিবির এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সাকিবকে আরও আগেই দলে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, রাজনীতির প্রভাব যদি সংস্কৃতি বা খেলাধুলায় পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত খেলোয়াড়ের মেধা, দক্ষতা ও পারফরম্যান্স। ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে সাকিব আল হাসানের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব প্রসঙ্গের মধ্যেই বিসিবির দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। মিশা সওদাগরের মন্তব্য সেই আলোচনার অংশ হিসেবেই সামনে আসে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের মধ্যে ব্র্যান্ড প্রমোশন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পীদের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতাকে কেউ কেউ ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও আয়ের নতুন মাধ্যম হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে শিল্পীসত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা করছেন। মিশা সওদাগরের বক্তব্যে সেই বিতর্কের মধ্যেই ব্র্যান্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ব্যক্তিগত অবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।


