রাজনীতি ডেস্ক
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এনসিপি মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে দেবিদ্বার উপজেলার শাকতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকে মন্তব্য করেন যে, ৫ আগস্টের আগে যারা বাকশক্তিহীন ছিলেন, তারা এখন তাদের বাকশক্তি ফিরে পেয়েছে। তিনি একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের বাকশক্তি হারানো প্রসঙ্গে সমালোচনা করেন।
রাত প্রায় ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় বছরে তাদের মধ্যে অনেক ধরনের দম্ভ দেখা গেছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যারা দীর্ঘ সময় বাকশক্তিহীন ছিলেন, তাদেরকে এখন বাকশক্তি প্রদান করা হয়েছে, ফলে জুলাই যোদ্ধাদের অবদানকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কমিটিতে এখন মানুষ জড়ো হওয়া সহজ হয়ে গেছে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান।
হাসনাত বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা যে কারণে বাকশক্তি হারিয়েছেন, সেই কারণগুলো নিয়ে আমরা সাধারণত কাউকে শুনি না। আবু বক্কর পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন, মাইনুদ্দিনরা তাদের অবস্থানের কারণে শহীদ হয়েছেন; তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা বা স্বীকৃতি কম দেখা যায়।” তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের অহংকার ও দম্ভের বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং মন্তব্য করেন যে, ফ্যাসিবাদের সময়ও দম্ভ কম ছিল না, তবে এখন সেই অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াত জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দলের নেতা ও কর্মীরা এলাকায় রাজনৈতিক সমর্থন প্রদর্শন করেন এবং উপস্থিত জনগণ ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৪ আসন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ন নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম এবং জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে থাকেন। নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক, র্যালি ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা ও প্রচারণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীর অবস্থান এবং ভোটার মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে এমন বৈঠকগুলোর গুরুত্ব থাকে। অন্যদিকে, জুলাই যোদ্ধাদের অবদান ও তাদের হারানো বাকশক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পর্কিত।
দেবিদ্বার উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বিভিন্ন দল প্রার্থীদের সমর্থন সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মন্তব্য এবং জনসংযোগমূলক কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে দলীয় কার্যক্রম ও ভোটার মনোভাবের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, কমিটি ও মাঠ পর্যায়ে সমর্থকদের উপস্থিতি, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং অতীত রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত বিতর্কগুলো ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


