আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে “তারেক রহমান এগিয়ে”  : টাইম ম্যাগাজিন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে “তারেক রহমান এগিয়ে” : টাইম ম্যাগাজিন

রাজনীতি ডেস্ক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনী দৌড়ে সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক জনমত জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে দলটির প্রধান মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক অভিজাতদের উত্তরাধিকার এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশার মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত আকারে প্রচারিত হতো। দেশে ফেরার পর প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ সম্পর্কেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তাকে স্বল্পভাষী ও চিন্তাশীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

তারেক রহমান ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং দলীয় সমর্থন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতার কারণেই নেতৃত্বের এই অবস্থানে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থনই তাঁর প্রধান ভরসা।

বিশ্লেষণে তার দেশে প্রত্যাবর্তনের সময়কার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর আগমন উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর মা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। ওই সময় রাজধানীতে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে, যা বিএনপির প্রতি জনসমর্থনের একটি দৃশ্যমান প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই জরিপে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন প্রায় ১৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

নীতিগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত কিছু কর্মসূচির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ব্যাপক খাল খনন, পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বৃক্ষরোপণ, রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে নতুন সবুজ উদ্যান স্থাপন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন। তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনার একটি অংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে তাঁর অতীত রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়ও উল্লেখ করা হয়। ২০০৭-০৮ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ১৮ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় কারাগারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগের কথা তুলে ধরে বলা হয়, এর ফলে তাঁর শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়, যা এখনও তাঁকে ভোগাচ্ছে। চিকিৎসার প্রয়োজনেই তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি রূপান্তরকালীন সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে জনমত, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতিযোগিতা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ