অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ইয়ার্ন, ফেব্রিক ও ডেনিম প্রদর্শনী এবং ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল আইসিসিবির ৩ নম্বর রাজদর্শন হলে ইয়ার্ন, ফেব্রিক ও ডেনিম প্রদর্শনী শুরু হয়, এবং পুষ্পাঞ্জলি হলে একই সময়ে আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
চার দিনব্যাপী ইয়ার্ন, ফেব্রিক ও ডেনিম প্রদর্শনী আয়োজক প্রতিষ্ঠান হলো কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ) ও দ্য সাব-কাউন্সিল অব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি টেক্স চায়না)। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত সুতা, ফেব্রিক, ট্রিমস এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম। এটি ২৫তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো ২০২৬-উইন্টার এডিশন এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ডেনিম শো-২০২৬, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডেনিম, জিনস ও আনুষঙ্গিক পণ্য নির্মাতারা অংশগ্রহণ করছেন। দুই প্রদর্শনীতে মোট ৬৫০টির বেশি বুথে ১৫টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৩২৫টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এছাড়া চার দিনব্যাপী ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলায় অংশগ্রহণ করছে চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ডের ৮০০টি স্টল। মেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, প্লাস্টিক খাত উদীয়মান সেক্টরের মধ্যে অন্যতম। এটি শ্রমঘন এবং রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলো এ খাতে উন্নতমানের প্লাস্টিক উৎপাদন করছে। আধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজের কারণে এ ধরনের মেলার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক মোল্ড, ক্রোকারিজ ও খেলনা, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক ফার্নিচার, মেলামাইন সামগ্রী এবং তৈরি পোশাকশিল্পের আনুষঙ্গিক পণ্য। এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনযন্ত্র ও প্রযুক্তি যেমন ইনজেকশন মোল্ডিং যন্ত্র, পিপি ওভেন ব্যাগ যন্ত্র, প্যাকেজিং যন্ত্র, ফ্লেক্সোগ্রাফিক প্রিন্টিং যন্ত্র, পিইটি ব্লো যন্ত্র ও প্লাস্টিক ব্যাগ তৈরির যন্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলার প্রথম দিনে প্লাস্টিক খাতের পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং), শিল্পভিত্তিক পারস্পরিক সহাবস্থান ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়। আজ দ্বিতীয় দিনে ‘প্যাকেজিং খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পণ্য চিহ্নিতকরণ’ এবং ‘এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্লাস্টিক খাত উন্নয়ন নীতি’ শীর্ষক দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


