জামায়াতের কর্মসূচিতে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

জামায়াতের কর্মসূচিতে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামী মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হলেও এর প্রভাব সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং বত্তাতলী স্টেশনে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তা নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাঁর মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে সে প্রতিবাদ হতে হবে শালীন ও শান্তিপূর্ণ। কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি বা সহিংসতা ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে মাঠ গরম করতে চায়, তাহলে তাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশাকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ধর্মের ভূমিকা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক বিষয়, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ব্যবহারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মসূচি পরিচালনা করলে তা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের চূড়ান্ত বিচার মানুষের নয়; এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো জনগণের সামনে নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি উপস্থাপন করা।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতামত ও ভোটাধিকার। কোনো দল বা প্রার্থী তাদের ইশতেহার ও কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে, জনগণ তা মূল্যায়ন করে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পথসভায় স্থানীয় নেতারা নির্বাচনী পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়ে বক্তব্য দেন। উত্তর হারবাং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল উল্লাহ নুরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, বিএনপি নেতা শফিউল আলমসহ স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার, ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় বক্তারা নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আইন ও আচরণবিধি মেনে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানান। তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উত্তেজনা পরিহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ