রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে একটি মাল্টিমিডিয়া বাসের উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি দলটির নির্বাচনী কার্যক্রম ও জনগণের প্রতি তাদের সংযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সম্পদ ও কর্তৃত্ব নিরাপদ হাতের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জনগণের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতের নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণার কৌশলও তুলে ধরা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন আসনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন ও নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ব্যবহার করছে। মিরপুর-১০ অঞ্চলে মাল্টিমিডিয়া বাসের কার্যক্রমে নির্বাচনী প্রচারণা, জনসংযোগ এবং দলীয় কর্মকাণ্ডের সম্প্রচার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিধি সম্প্রসারিত হবে এবং নতুনভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যত উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।
উক্ত দিনে ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে দাঁড়িপাল্লা মার্কা ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনার বিষয়েও আলোচনা করেন। দলটি নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
বিবেচনায় রাখার বিষয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দলটি বিভিন্ন প্রযুক্তি ও জনসংযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে তাদের নীতি, প্রস্তাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের মাল্টিমিডিয়া প্রচারণা দলের নির্বাচনী উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ রাখার জন্য মাল্টিমিডিয়া বাসের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এতে নির্বাচনী তথ্য প্রচার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দলের বার্তা সম্প্রচার করা হবে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণভাবে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান ও রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিভিন্ন দল নির্বাচনী প্রচারণায় আধুনিক প্রযুক্তি ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।


