আইন আদালত ডেস্ক
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান (বীরপ্রতীক) বলেছেন, জোইন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এর গোপন বন্দিশালায় প্রথম দফায় ৪৩ দিন বন্দি থাকার সময় তার চোখ সারাক্ষণ বেঁধে রাখা হতো। তিনি জানিয়েছেন, ‘ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় চোখ খুলে দেওয়া হতো, তবে হাতে হাতকড়া থাকতো এবং মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।’
হাসিনুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জেরা শুরু হয়। জেরার কিছু অংশ অসমাপ্ত থাকায় মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। জেরায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এবং প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
জেরার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ডিজিএফআইয়ের ব্যুরো এবং সিআইবির কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রশ্ন করেন। 이에 সাক্ষী জানান, সে বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই। আয়নাঘরে কতগুলো সেল রয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, আয়নাঘরে ১০টি সেল ছিল এবং তার মধ্যে একটি সেলে তাকে বন্দি রাখা হয়েছিল। এগুলোকে রিমান্ড সেল বলা হতো।
হাসিনুর রহমান আরও জানান, জেআইসির গোপন বন্দিশালার সাংকেতিক নাম তিনি সাংবাদিক তাসনিম খলিলকে জানিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে বিষয়টি প্রথমবার মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। আয়নাঘরের দেওয়ালে কোনো আয়না ছিল কি না জানতে চাইলে সাক্ষী বলেন, সেখানে কোনো আয়না ছিল না।
জেআইসিতে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৮ ডিসেম্বর মামলার শুনানি শুরু হয়। একই দিনে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। তারা হলেন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। তাদের মধ্যে শেষ তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন।
জেরার তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষীর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে জেআইসিতে বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। বন্দি অবস্থায় চোখ বেঁধে রাখার মাধ্যমে সীমিত দৃষ্টিসীমা এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি করা হতো। এছাড়া রিমান্ড সেলগুলোর সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য আদালতকে জেনারেল ইন্টারোগেশন প্রক্রিয়া এবং গোপন বন্দিশালার কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাক্ষীর জেরা চলাকালীন সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী বিভিন্ন প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ এসব জবাব নথিভুক্ত করেছেন। আদালত পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষীর বাকি অংশের জেরা সম্পন্ন করার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন।


