জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বছর এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, তফসিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি বলেন, যদিও এসব ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ গত সরকারের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। তিনি ২০১৪ সালের পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হিসেবে দেখছেন, যখন নির্বাচনের সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত হয়েছিল। প্রেসসচিব আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট সহিষ্ণুতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়া, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত শাখার সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপপ্রেসসচিব আজাদ মজুমদার। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবেন না, সেই বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।
শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সকল প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি ভোটারদের উৎসাহিত করেছেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনের কোনো প্রকার সহিংসতা বা অশান্তি সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান নির্বাচনের পরিস্থিতি পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। যদিও সামান্য সহিংসতা ঘটেছে, তবে সরকার ও কমিশন নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য সকল পক্ষের সহমর্মিতা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, শেরপুরে মাওলানা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ড নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব বহন করছে। উপপ্রেসসচিব আজাদ মজুমদারের মতে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার নিশ্চিত করা হলে, এটি নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। পুলিশ ও প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসসচিব নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে চারজনের প্রাণহানির বিষয়টি নিয়ে কোনো অতিরঞ্জিত মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন এবং শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে যাতে ভোটাররা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এর ফলে, চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের তৎপরতা, প্রশাসনের নজরদারি এবং রাজনৈতিক দলের সহিষ্ণু মনোভাব একত্রিত হলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


