ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থনে ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি স্থগিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থনে ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি স্থগিত

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের কারণে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

সরাইল উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ.বি.এম. সালাউদ্দিন বিপ্লব বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা কমিটির সদস্যদের কারণে স্থানীয় শাখায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

রুমিন ফারহানা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিতে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দেয়। মনোনয়ন না পাওয়ায় রুমিন ফারহানা ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির বেশিরভাগ নেতা রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এই অবস্থান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কমিটির অধিকাংশ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় উপজেলা বিএনপি শাখার শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম ঠিক রাখতে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “ওই কমিটির অধিকাংশ সদস্য দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী কাজ করছিলেন না। সবার সতর্কতা নিশ্চিত করতে পুরো কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কমিটি পুনর্গঠন এবং শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণ দলীয় সমন্বয়হীনতা ও ভোটপ্রচারণায় বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি কমিটি পুনর্গঠন করে ভোটারদের মনযোগ কেন্দ্রীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সমর্থন দলীয় সমন্বয়ে ভাঙন সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দলগুলোর মধ্যে ভোট ভাগাভাগি ও জোটের নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় শাখার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সরাইল উপজেলা বিএনপির এই পদক্ষেপটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের প্রচারণার সময় দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্থানীয় নেতাদের কার্যক্রমে নজরদারি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপি এবং জোটশিল দলগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি, এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি স্থগিতকরণ ভোট প্রভাবের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ