বিনোদন ডেস্ক
বনগাঁ থেকে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর উপর প্রকাশ্যে হেনস্তা করার অভিযোগে যুবক তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে বনগাঁ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার মিমির করা অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।
জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২৫ জানুয়ারি বনগাঁ পৌরসভার নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী স্টেজে উঠে মিমির পরিবেশিত অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাকে স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন। মিমি ওই ঘটনার পর বনগাঁ থানায় তনয় শাস্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের তৎপরতার কারণে বৃহস্পতিবার তিনি গ্রেপ্তার হন।
মিমি চক্রবর্তী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যারা অপরাধ করে তাদের শাস্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, এতদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এবং হেনস্তা চলছিল, যা বিভিন্ন মিডিয়া এবং চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, “চুপ থাকারও একটি সীমা থাকে। যখন একজন নারী হেনস্তার শিকার হচ্ছে, সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে মিথ্যা অপবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তা মান্য করা যায় না।”
মিমি আরও বলেন, তার কর্মজীবনের শুরু থেকে কখনোই তিনি কোনো অনুষ্ঠানে দেরিতে উপস্থিত হননি। তিনি জানান, এই ধরনের অপবাদ তার পেশাদারিত্ব এবং সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মিমি বলেছিলেন, “এটি শেষ নয়, এটি শুধু শুরু। আমি এর শেষ দেখব। এবার নিশ্চয়ই দেখব।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রবিবার রাতে নয়াগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে মিমি পৌনে ১২টার দিকে স্টেজে ওঠেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন তনয় শাস্ত্রী নামে একজন ব্যক্তি স্টেজে ওঠে এবং গানের মধ্যেই তাকে বাধা দেয়। ওই ব্যক্তি ক্লাবের একজন কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে বনগাঁ থানায় তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে যুবককে স্থায়ীভাবে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবলিক প্লেসে নারীর হেনস্তা এবং অপমানের ঘটনা ঘটলে তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত শেষ হলে অভিযোগ অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঞ্চে প্রকাশ্যে হেনস্তার এই ঘটনা শিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মানদণ্ডের প্রতি নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে। ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ ভবিষ্যতে অনুষ্ঠানগুলোতে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যে অপবাদ ও হেনস্তা ঘটেছিল, তার বিচার এবং আইনি প্রক্রিয়া ন্যায়সংগতভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে এটি দেশের সাংস্কৃতিক ও বিনোদন শিল্পে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


