আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন। এই পরিকল্পনার পেছনে মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বিষয়ক মার্কিন আলোচনা ব্যর্থ হওয়াকে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলতি আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবরের সূত্রে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় গত বছরের জুনে পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলার চেয়েও বৃহৎ আকারের অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর আগে বুধবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রমে কোনো প্রকার স্বাধীনতা দেওয়া হবে না এবং দেশটির দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে এখনই চুক্তিতে আসতে হবে, নয়তো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা মূলত চলতি মাসে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে তৈরি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত। মার্কিন প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের সহায়তার অজুহাত দেখিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের বর্তমান পরমাণু কার্যক্রম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষকদের দীর্ঘদিনের নজরে রয়েছে। ২০১৫ সালের পরমাণু সমঝোতার পরে ইরানকে তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে বলা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ওই সমঝোতা ত্যাগের পর পুনরায় ইরানের ওপর কড়াকড়ি চাপ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুনভাবে জোরালো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউএস নেভি ও অন্যান্য সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের উপকূলবর্তী অঞ্চলে নৌবহর মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, তেল রফতানি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহল এই পরিস্থিতিকে যথাযথ মনিটর করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কোন সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ এড়াতে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ইরান এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবস্থান করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হুমকি শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ চেইনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ বাড়াচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের উগ্র পদক্ষেপ এড়ানো যায় এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়।


