রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের স্বস্তি দিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সময় পর রাজশাহীতে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারেক রহমান কৃষি, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। বিশেষ করে আম উৎপাদনে এই অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে আমের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে, যাতে উৎপাদিত আম দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারেন।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীশাসন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। ব্যারেজ নির্মাণ হলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষিজমিতে পানির সংকট কমবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে খরাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই এলাকার কৃষকদের টিকে থাকতে হলে পরিকল্পিত সেচ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষকদের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কৃষিঋণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝায় জর্জরিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে তারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। এতে করে কৃষকরা নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগ দিতে পারবেন এবং কৃষি খাত আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন টেকসই করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২২ বছর পর তারেক রহমান রাজশাহীতে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সক্রিয়তা দেখা যায়। জনসভাস্থলে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে থাকেন। সভা শুরুর আগেই মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চল বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এই অঞ্চলের ভোটারদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণ মওকুফ, সেচ সুবিধা ও সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সভা শেষে নেতাকর্মীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে স্থান ত্যাগ করেন।


