রাজনীতি ডেস্ক
সুনামগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের তালিকা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দলীয় পদে যুক্ত বা পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে—এমন কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে বাদ দিতে হবে এবং তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। তার মতে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। প্রার্থী হিসেবে তার অভিযোগ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকে; সেই তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি দরকার।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, এমন কেন্দ্রগুলোতে সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের অভিযোগ যাচাই সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার জন্য সরকারের বাজেটের সক্ষমতা রয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় কেবল মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তার মতে, সাধারণ মানুষ নানা কারণে অভিযোগ জানাতে ভয় পায়। ফলে কেবল অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে প্রশাসনের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
উল্লেখ্য, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ পরিচালনা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একইভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়ন, প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ-পরবর্তী কার্যক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বডি ক্যামেরা বা অনুরূপ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো, গোপনীয়তা ও পরিচালনাগত নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণত নির্বাচনী আচরণবিধি ও কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে থাকেন। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


