জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট-২০২৬-এর প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এই সভায় তিনি সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল কক্সবাজারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মতবিনিময়কালে আসন্ন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বসম্পন্ন আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ পর্যবেক্ষণে তাদের দায়িত্ববোধ, জনসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মান যাচাই করা হয়।
সভায় সেনাসদরের সামরিক সচিব, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কক্সবাজার বেজের এয়ার অফিসার কমান্ডার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারসহ সেনাসদর, বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সেনাপ্রধানের এ মতবিনিময় ও পরিদর্শনকর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কক্সবাজারের পুরো এরিয়ায় নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে নির্বাচনকালীন নাগরিক নিরাপত্তা, জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে জোরপূর্বক বা অনিয়মের সুযোগ কমানো এ ব্যবস্থাপনার মূল দিক।
এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন একসাথে কাজ করে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে যে ভোটগ্রহণ ও গণভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভ্রান্তি বা জবরদস্তি হবে না।
এছাড়া, নির্বাচনকালীন সময়ে জনসাধারণের উদ্বেগ এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এর ফলে কক্সবাজারসহ সমগ্র এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা কক্সবাজারে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর একটি বিস্তারিত ও সমন্বিত ধারণা প্রদান করেছে।


