মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা বিসিবির

মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা বিসিবির

খেলাধূলা ডেস্ক

দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরার প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় হোম সিরিজ দিয়েই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে। বোর্ডের ভেতরের আলোচনায় বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাকিব আল হাসান সর্বশেষ আগস্ট ২০২৪ সালে দেশের বাইরে অবস্থান করার পর আর বাংলাদেশে ফেরেননি। ওই সময়ের পর আন্তর্জাতিক সূচিতে তার অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সমসাময়িক পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এরপর পাকিস্তান ও ভারত সফরের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি তার। এই বিরতিতে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা আলোচনা চললেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিসিবি সূত্র জানায়, সাকিবকে ঘিরে বিদায়ী সিরিজ আয়োজনের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বরং বোর্ডের লক্ষ্য, তাকে নিয়মিত দলে ফেরানোর মাধ্যমে আরও কিছু সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া। বোর্ড মনে করছে, অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য ও পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে।

বিসিবির একজন পরিচালক জানিয়েছেন, সাকিবের প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বোর্ড সভাপতি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের মাধ্যমে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেই তাকে জাতীয় দলে পাওয়া যাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের সম্মতি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাকিব আল হাসান নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি সিরিজ ভালোভাবে খেলে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা তার রয়েছে এবং সে কারণেই এখনো ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে একটি সিরিজ শেষ করে বিদায় নেওয়াই ক্যারিয়ারের জন্য যথাযথ হবে। এই বক্তব্যে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি ইঙ্গিত মিললেও, সময়সূচি ও সিরিজের বিষয়টি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিসিবির বোর্ড সভায় ২৪ জানুয়ারি সাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা শেষে বোর্ডের একাধিক পরিচালক জানান, বিষয়টি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বোর্ড মনে করছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্তই হবে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই সিরিজটি হবে ঘরের মাঠে। এরপর মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবার বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান দল। বোর্ডের ধারণা, মার্চের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। পরবর্তী টেস্ট সিরিজে তার ভূমিকা থাকবে কি না, তা পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করবে।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর সাকিবের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ দলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞতা, অলরাউন্ড সামর্থ্য এবং নেতৃত্বের গুণাবলি—সব মিলিয়ে তিনি দলে যুক্ত হলে নির্বাচনী পরিকল্পনা ও দলগত সমন্বয়ে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, দল নির্বাচন এবং সিরিজভিত্তিক ভূমিকা নির্ধারণ করবে বিসিবি ও টিম ম্যানেজমেন্ট।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ