রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
শুক্রবার রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাত পৌনে নয়টার দিকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার। এই সনদকে সম্মান জানাতে হলে নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারমূলক গণভোটে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। সে কারণেই তিনি ভোটারদের ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন জনগণ দেখেছে, তা বাস্তবায়নে নির্বাচনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভোটারদের ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন কোনো একক দলের নেতৃত্বে নয়, বরং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংঘটিত হয়েছে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণকে সচেতন থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রংপুরকে অনেক সময় পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাস্তবে এ অঞ্চলে কৃষি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন, এক সময় রংপুরে বোরো ধানের চাষ প্রচলিত ছিল না; শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের উদ্যোগের মাধ্যমে এ অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শিল্পায়ন হলে কৃষিপ্রধান রংপুর-দিনাজপুর এলাকাতেও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা স্থাপন এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর ছাড় দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রধান বাধা দুর্নীতি। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে বিভিন্ন বড় প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে। এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
কৃষক ও নারীদের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ, কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ এবং কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানিসমস্যা দীর্ঘদিনের। তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পসহ খাল খননের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপি ও জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সমাবেশের আগে ও পরে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।


