আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরান ‘ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে কোনো হুমকির মুখে আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্কের আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাঘচি বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু হুমকির পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরানের মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখব। প্রতিটি দেশই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে পারে না। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে অভিযান চালানোর পর ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপ উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ইরানে সরকার পতনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা দেশটির সরকারি অবকাঠামো বা ভবনে হামলা চালাতে পারে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার, ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের দিকে তার দেশের ‘ভেনেজুয়েলার চেয়ে বড় নৌবহর’ পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না আসে, তাহলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করতে আগ্রহী। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের খুব শক্তিশালী নৌবহর আছে। বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী পুনর্গঠিত হয়েছে। জাহাজগুলো ইরানের দিকে যাচ্ছে। ইরান চুক্তি করতে চায়।”
আরাঘচির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের নিরাপত্তা অন্য কারও বিষয় নয় এবং দেশীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি পুনর্গঠন ও আলোচনার সম্ভাবনা জটিলভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। ইরান চুক্তির জন্য খোলামেলা আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু সামরিক হুমকি এবং চাপকে আলোচনার শর্ত হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অবস্থার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করতে পারে।
একই দিনে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিক্ষোভ দমন ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তেহরানের লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা এবং এ বিষয়ে ব্রিটেন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কেবল দ্বিপক্ষীয় নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে যেকোনো আলোচনা বা চাপের প্রতিক্রিয়া কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে জটিল করছে। এছাড়া, পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক উপস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইরানের প্রতিক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।


