জকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিনারকে পরাজিত করে ফাইনালে অভিযান

জকোভিচের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সিনারকে পরাজিত করে ফাইনালে অভিযান

 

ক্রীড়া ডেস্ক

৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতালীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ানিক সিনারকে পরাজিত করে ফাইনালে প্রবেশ করেছেন। রড লেভার অ্যারেনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোকোভিচ ৩–৬, ৬–৩, ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে সিনারকে হারান। এ বিজয় জোকোভিচকে তার ৩৯তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে এবং মেলবোর্নে ওপেন যুগে ফাইনালে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের এই ম্যাচটি টেনিস প্রেমীদের জন্য একটি কঠিন ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই ছিল। সিনার ও জোকোভিচের মধ্যে আগের পাঁচটি সাক্ষাতে জোকোভিচ পরাজিত হলেও এই ম্যাচে তিনি পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হন। ম্যাচ শেষে কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসে নিজের জয় উদযাপন করেন জোকোভিচ। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা অবাস্তব মনে হচ্ছে।’

জকোভিচ ফাইনালে স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে মুখোমুখি হবেন। আলকারাজ পাঁচ সেটের কঠিন লড়াইয়ে জার্মান টেনিস তারকা আলেকজান্ডার জ্ভেরেভকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছেন। এই জুটি নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালকে ব্লকবাস্টার লড়াই হিসেবে পরিণত হবে।

জোকোভিচ জানিয়েছেন, সিনারের বিরুদ্ধে ম্যাচে আগের হারের পর তিনি সিনারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কারণ তার উপস্থিতি তাকে সর্বোচ্চ দক্ষতা দেখানোর জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সে আমাকে শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে। তীব্রতার মাত্রা এবং ম্যাচের মান অত্যন্ত উঁচু ছিল। জানতাম—আজ জয়ের সুযোগ পেতে হলে এটাই একমাত্র পথ।’

জকোভিচের এই জয় তাকে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার পথে এগিয়ে রাখছে। তিনি ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়াও, জোকোভিচ ইতোমধ্যেই মেলবোর্নে ১০ বার শিরোপা জিতেছেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিখ্যাত টেনিস তারকা মার্গারেট কোর্টকেও ছাড়িয়ে, জোকোভিচ ইতিহাসে নাম লেখাতে চলেছেন।

নভাক জোকোভিচের ক্যারিয়ারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সংগ্রামে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্ভব নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। সিনার ও আলকারাজের উদীয়মান পারফরম্যান্সের ফলে প্রতিটি ফাইনালে জয় পাওয়া এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে জোকোভিচের অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং অতীতের সাফল্য তাকে রেকর্ড শীর্ষক লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।

ফাইনালে জোকোভিচ ও আলকারাজের মুখোমুখি লড়াই ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ম্যাচটি শুধু এক শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, বরং আধুনিক টেনিসের প্রতিভা, ধৈর্য এবং কৌশল নিরীক্ষণের একটি পরীক্ষাও হবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ