রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোটে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের একটি অংশ ভোট গ্রহণ ছাড়াই দেশে ফেরত এসেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানো ব্যালটের মধ্যে ১১ হাজার ২২৬টি ব্যালট সরবরাহজনিত কারণে ভোট ছাড়াই বাংলাদেশে ফিরে এসেছে।
ইসির তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৮টি পোস্টাল ব্যালট বিদেশে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৯৫৪টি ব্যালট প্রবাসী ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। প্রাপ্ত ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭২টিতে ভোট প্রদান করেন ভোটাররা। ভোটগ্রহণ শেষে ডাকযোগে দেশে ফেরত আসা ব্যালটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৫৩৩টি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে পৌঁছানো ব্যালটের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ৩৪১টি।
ইসি জানিয়েছে, বিদেশে পাঠানো ব্যালটগুলোর একটি অংশ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় সেগুলোতে ভোট গ্রহণ করা যায়নি। এ ধরনের ১১ হাজার ২২৬টি ব্যালট ভোট ছাড়াই দেশে ফেরত এসেছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সময়সূচির জটিলতা এবং বিভিন্ন দেশে ডাক পরিষেবার ভিন্নতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এবারের নির্বাচনে দেশে ও দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন। ইসি সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার কার্যকর করতে পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যালটে ভোট দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ডাকযোগে দেশে পাঠান।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাটি চালুর পেছনে মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তবে বাস্তব প্রয়োগে সময় ব্যবস্থাপনা, ব্যালট বিতরণ ও ফেরত আনার ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট ভোটারের কাছে পৌঁছানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে তা দেশে ফেরত আনার পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক ডাক পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোট ছাড়াই ফেরত আসা ব্যালটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি প্রবাসী ভোট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা কমাতে সময়সূচি আরও আগেভাগে নির্ধারণ, বিকল্প বিতরণ পদ্ধতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ডাক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
ইসি জানিয়েছে, ফেরত আসা ব্যালটগুলোর যাচাই-বাছাই শেষে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কমিশনের মতে, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক উভয় দিকেই ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন, যদিও একটি অংশ নানা কারণে ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থার নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


