ভোটের মাধ্যমেই বিজয় নিশ্চিত করতে হবে, অনিয়মের সুযোগ নেই: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ

ভোটের মাধ্যমেই বিজয় নিশ্চিত করতে হবে, অনিয়মের সুযোগ নেই: নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ

ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমেই বিজয় নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিকল্প পদ্ধতির সুযোগ থাকবে না—এমন বক্তব্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। শনিবার সকালে ভোলার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচন নিয়মরক্ষার নির্বাচন নয়; বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ভোটের মাধ্যমেই ফল নির্ধারিত হবে।

মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত তিনটি নির্বাচনে যেসব ব্যক্তি বা কাঠামোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তাদের এবারের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরিচালনায় আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাত বা অনিয়মের ঝুঁকি কমানো।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, অবৈধ ও হারানো অস্ত্র এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। তবে তিনি জানান, স্বস্তির বিষয় হলো—বেশিরভাগ অস্ত্র ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেভিলহান্ট ফেজ-২’ শুরু হওয়ার পর গত দেড় মাসে প্রায় পাঁচ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনো কিছু অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা দাবি করে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সচেতন। তিনি এ অগ্রগতির পেছনে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তদারকি ও নজরদারিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি।

নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সানাউল্লাহ বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য থাকলে তার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে হবে, যাতে তারা নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত আচরণবিধি মেনে চলে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের সার্থকতার জন্য তিনটি মূল শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে—স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক কর্মকর্তাকে শতভাগ এই তিনটি নীতি অনুসরণ করতে হবে।

নিরপেক্ষতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই নাগরিক ও ভোটার হিসেবে ব্যক্তিগত পছন্দ রাখতে পারেন, তবে দায়িত্ব পালনের সময় সেই পছন্দ বা অপছন্দের কোনো প্রভাব যেন সিদ্ধান্তে না পড়ে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে বিবেচনা করার নির্দেশনা দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একচুলও বিচ্যুতির সুযোগ নেই।

ভোটারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন সকল ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি যেন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ না হন, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

মতবিনিময় সভায় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছারসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত তৎপরতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ