রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় মনোনয়ন বিতর্ক এবং নেতাকর্মীদের অগণতান্ত্রিকভাবে বহিষ্কারের প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলা বিএনপির অন্তত ৬৭ জন পদধারী নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। গত দুই দিনে সাধারণ নেতাকর্মীসহ মোট পদত্যাগকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫০ জনে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সদর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই গণ-পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আতোয়ার হোসেন বাবুল পদত্যাগপত্র পাঠ করেন।
পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান ছোট বিজয়, মুন্সিগঞ্জ শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশ্রাফুজ্জামান অভি, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবর, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান খাঁন, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল, মিরকাদিম পৌর মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ, মুন্সিগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, আধারা ইউনিয়নের মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার পরও তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। কোনো প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই নেতাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে, যা তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আতোয়ার হোসেন বাবুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পদত্যাগের এই ঢেউ এখানেই থামবে না। আগামী দিনে আরও অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন।” তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন গণ-পদত্যাগ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে। তবে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টিকে ‘সাময়িক অসন্তোষ’ হিসেবে দেখলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। তবে তৃণমূলের একটি বড় অংশ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মহিউদ্দিন বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেছেন, মহিউদ্দিনের পক্ষে কাজ করায় নেতাকর্মীদের গণহারে বহিষ্কার করা হচ্ছে এবং এটি কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলীয় ঐক্য ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এমন ধরনের গণ-পদত্যাগ বিএনপির স্থানীয় প্রার্থী এবং সমর্থকশিবিরের মনোবল কমাতে পারে। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনে, তবে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে দলের ভোট সংগঠনের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আরও বলছেন, দলীয় মনোনয়ন বিতর্ক ও তৃণমূলের বিরোধের কারণে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পদক্ষেপ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


