রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার মাধ্যমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয় এবং ওই সময় একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রকাশিত হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত পোস্টটি ডা. শফিকুর রহমানের কোনো বক্তব্য বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দলের কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিমের যাচাই অনুযায়ী ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক সময়ে সমন্বিত সাইবার আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আক্রমণকারীরা একটি পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে আমিরে জামায়াতের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে বিদ্যমান নিরাপত্তা প্রটোকল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে জামায়াতের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে দলের অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই ও সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ওই স্বল্প সময়ের মধ্যে আমিরে জামায়াতের নামে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে মিথ্যা বক্তব্য আরোপ করা হয়েছে। দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, উক্ত পোস্ট বা কনটেন্ট কোনোভাবেই ডা. শফিকুর রহমানের মতামত, বক্তব্য বা রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
বিবৃতিতে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে ভুয়া তথ্য, জাল উদ্ধৃতি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার না করার অনুরোধ করা হয়।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচয় জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তি বা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতন ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য কনটেন্ট চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিমের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, দলটি স্বচ্ছতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপত্তা জোরদারের কাজ চলমান রয়েছে।
শেষে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


