ঢাকায় তুরস্কের নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্র চালু

ঢাকায় তুরস্কের নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্র চালু

রাজধানী ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় তুরস্কের নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে ‘মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মোসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তুরস্কে ভ্রমণ ইচ্ছুকদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্রটি রাজধানীর বনানী এলাকায় অবস্থিত। বনানীর ১১ নম্বর রোডের এম ব্লকের ৭৭ নম্বর বাড়িতে কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কেন্দ্রটি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে। একই দিনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদনকারীরা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা ও অন্যান্য বৈধ ভ্রমণ উদ্দেশ্যে তুরস্কে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র যাচাই এবং আবেদন প্রক্রিয়াকরণ–সংক্রান্ত প্রাথমিক কার্যক্রম এই কেন্দ্রেই সম্পন্ন হবে। তবে ভিসা প্রদান বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।

ভিসা ফি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। তুরস্কের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে তিন মাস মেয়াদি ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ছয় মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য ফি ২৭ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ১২ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে তিন মাসের জন্য ফি ৪১ হাজার টাকা, ছয় মাসের জন্য ৪৩ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং ১২ মাসের জন্য ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া তিন মাস মেয়াদি ডাবল ট্রানজিট ভিসার ফি ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ২৫০ টাকা।

ভিসা ফি ছাড়াও আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি অতিরিক্ত সেবার নির্ধারিত চার্জ রয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়াম লাউঞ্জ ব্যবহারের জন্য ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্লাইট রিজার্ভেশন ও হোটেল রিজার্ভেশন সেবার জন্য পৃথকভাবে ২৫০ টাকা করে ফি ধার্য করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক ফটো সেবার জন্য ২০০ টাকা, এসএমএস সেবার জন্য ৪০ টাকা এবং ফটোকপি ও প্রিন্টআউটের ক্ষেত্রে প্রতি পিসের জন্য ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদনকেন্দ্র চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও সময়ানুবর্তী হবে। আগে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, ভিড় ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ থাকলেও নতুন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে ভ্রমণপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য ও জনসম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

তুরস্কের দূতাবাস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের ভিসা সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময়সূচি সম্পর্কে আগেই বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়ার পর আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আবেদন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ