রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ইসলামী আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা মৃধাপাড়ার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ফরিদপুর-২ আসনের ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন সালথা উপজেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ বেলাল হোসেন, উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. মতিউর রহমান, রামকান্তপুর ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা জামাল উদ্দিন, গট্টি ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন এবং সোনাপুর ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আল্লামা শাহ আকরাম আলীর পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভাওয়াল ইউনিয়ন খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন সালথা উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রফেসর আবুল ফজল মুরাদ, ঢাকা মহানগর জামায়াতের সদস্য সাইফুর রহমান হিটু, ফরিদপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান ফরিদী এবং উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি মফিজুর রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুর-২ আসনে এই ধরনের পদত্যাগ এবং যোগদানের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামি আন্দোলনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগে দলটির স্থানীয় organisational শক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হতে পারে, যা ভোট প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসে নতুন নেতৃবৃন্দের সংযোজন প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী প্রচারণাকে শক্তিশালী করতে পারে।
ফরিদপুর-২ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতৃত্ব ও ভোটার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধরনের যোগদান প্রার্থীর নির্বাচনী কৌশল এবং সমর্থন ভিত্তি প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলার রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, ইসলামী আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিসের মধ্যে এই ধরনের স্থানান্তর প্রার্থীর স্থানীয় সমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক মানচিত্রে সাময়িক পরিবর্তন সূচিত করছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনাগুলো ভোটারদের মনোভাব এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এই ধরনের পদত্যাগ ও যোগদানের ঘটনা নির্বাচনী প্রচারণার গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী ফলাফলের উপর এ ধরনের পরিবর্তনগুলো কী প্রভাব ফেলবে তা ভোটারদের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।
এছাড়া, খেলাফত মজলিস স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের সংযুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব নির্বাচনী শক্তি বৃদ্ধি এবং ভোটারদের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেতৃবৃন্দের স্থানান্তর এবং সমর্থন বৃদ্ধির ঘটনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


