সারাদেশ ডেস্ক
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে আলাদা দুটি স্থান থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দুই সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে সাবেক পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম রাসেল ও সাবেক পৌর কমিশনার আবুল বাসার পারভেজকে আটক করা হয়। পরে তাদের মতলব দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মতলব বাজার এলাকার এনএএম টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি বাসা তল্লাশি করে মাহবুব আলম রাসেল ওরফে ব্ল্যাক রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই সময় তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত মাহবুব আলম রাসেল (৩৪) মতলব দক্ষিণ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবার নাম ইদ্রিস ব্যাপারী। তিনি উপজেলার দক্ষিণ বাইশপুর সরকার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা।
এদিকে একই দিনে উপজেলার বাইশপুর এলাকায় আরেকটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে নিজ বাসা থেকে সাবেক পৌর কমিশনার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাসার পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি মৃত জহিরুল ইসলাম মিয়াজের ছেলে এবং উত্তর বাইশপুর মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযানের পর উভয় আসামিকে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মতলব দক্ষিণ উপজেলাসহ চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালায়, যাতে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয় এবং জনস্বাভাবিক জীবন ব্যাহত না হয়।
এদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকায় কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানান, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে স্থানীয় জনগণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


