রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বন্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এই জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
ডা. তাহের তার বক্তব্যে বলেন, ১১ দলীয় জোটে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি এবং ইসলামী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই জোটের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে এবং নির্বাচনী পরিবেশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা এবার তাদের বিবেচনায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন অতীতের কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের মতো নয়। তার মতে, এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেসব নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন বাস্তবতায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ডা. তাহের বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন খুব সীমিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতির অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও শাসনব্যবস্থার ভেতরে দুর্নীতির চর্চা বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো কোনো সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে দুর্নীতির উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও উন্নয়নপ্রক্রিয়ার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
জনসভায় বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। বক্তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশারসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে আয়োজকেরা জানান, নির্বাচনের আগে কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে জনসভা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করার পরিকল্পনার কথা জানান তারা।


