রাজশাহীতে একটি সংগঠনের কার্যালয়ের নামে বাড়ি দখলের অভিযোগ, বিএনপি নেতার উদ্যোগে উচ্ছেদ

রাজশাহীতে একটি সংগঠনের কার্যালয়ের নামে বাড়ি দখলের অভিযোগ, বিএনপি নেতার উদ্যোগে উচ্ছেদ

রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকায় একটি সংগঠনের কার্যালয় স্থাপনের নামে একটি ভবনের ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যালয় উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন। রোববার দুপুরে তাঁর উপস্থিতিতে ভবনের সামনে লাগানো সাইনবোর্ড ও ব্যানার খুলে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর উপশহর এলাকার ২ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি চারতলা ভবনের দোতলা ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়িক কার্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে। পরে ওই ফ্ল্যাটটি ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের জেলা ও মহানগর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করা হয়। ভবনটির মালিক আইনজীবী আকরামুল ইসলাম, যিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী হিসেবে কর্মরত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক।

ভবন মালিক আকরামুল ইসলাম জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার ২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। ভাড়ার শর্ত অনুযায়ী ৫৮ হাজার টাকা জামানতের বিপরীতে মাসিক ২৯ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সে সময় ভাড়াটে পক্ষ জানায়, সেখানে একটি ডেভেলপার ব্যবসার অফিস পরিচালিত হবে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই ভবনের সামনে সংগঠনের নাম উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয় এবং মাইক ব্যবহার করে কর্মসূচি পালন শুরু হয়।

এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়াদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। আকরামুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতির কারণে একে একে অন্যান্য ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাটটি খালি করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও ভাড়াটে পক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়, কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও ফ্ল্যাট ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে শনিবার ভবন মালিকের ছেলে সায়েমুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের ভবনের ফ্ল্যাট দখল করে রেখেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলও বকেয়া রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার দুপুরে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু ঘটনাস্থলে যান। তাঁর উপস্থিতিতে সংগঠনের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও ব্যানার খুলে ফেলা হয়। এ সময় কার্যালয়ে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। উচ্ছেদের সময় ব্যানারে দেখা যায়, সরকার জিয়াউর রহমান নিজেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং একই নামের আরেকজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামে বিএনপির কোনো অনুমোদিত বা স্বীকৃত জাতীয় কিংবা স্থানীয় সংগঠন নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নিজ উদ্যোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ভবন প্রতারণার মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি জানান, বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির কথিত কেন্দ্রীয় সভাপতি সরকার জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠনটি ভুঁইফোড় নয় বলে দাবি করেন। বাড়ি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর ফ্ল্যাট ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল এবং বিকল্প স্থানে অফিস খোঁজা চলছিল। তাঁর মতে, স্থানান্তরের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন ছিল।

ঘটনার পর এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনগতভাবে ভাড়া চুক্তি লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সম্পত্তি দখলের অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ