তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
বিএনপি ঘোষণা করেছে, সরকার ক্ষমতায় এলে ধাপে ধাপে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সুলভ ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বনানী ক্লাবে শনিবার ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান। ন্যাশনালিস্ট আইসিটি ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। অ্যাফিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি সরকার তথ্যপ্রযুক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবে। সরকারের লক্ষ্য হবে জনগণের ক্ষমতায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং মেধাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। তিনি আরও জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ড. মাহদী বলেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরসহ জনবহুল স্থানে ধাপে ধাপে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটবে।
ফ্রিল্যান্সারদের দাবির প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টিও সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করা হবে। এছাড়া দেশের ৯৫ শতাংশ জনগণকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার সাতটি ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে– সবার জন্য ইন্টারনেট, ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেপ্যালসহ ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি, দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে উন্নীত করা।
এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।


