রাজনীতি ডেস্ক
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব বাহিরমাদি ও পূর্ব ফিলিপনগর এলাকায় পৃথক ঘটনায় প্রচারণায় বাধা, গালাগালি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিএনপি নেতারা যুবদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
জামায়াতের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকালে জামায়াত মনোনীত সংসদ প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল হোসেনের পক্ষে দলের মহিলা বিভাগের কয়েকজন কর্মী পূর্ব বাহিরমাদি এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে প্রচারণায় বাধা দেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। জামায়াতের দাবি, অভিযুক্তরা নিজেদের কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে লিটন, নরশেদ ও বিপুল নামে তিনজনের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় পূর্ব ফিলিপনগর এলাকার জামায়াতকর্মী খাজা আহমেদ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে এসব তথ্য জানান। অভিযোগপত্রে বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সোমবার একই সময়ে ২৫ থেকে ৩০ জন জামায়াত কর্মী মোটরসাইকেলযোগে ফিলিপনগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটনের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বলেন, যুবদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জামায়াতের কয়েকজন মহিলা কর্মী এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় লিটনসহ কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি দাবি করেন, বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং যুবদল নেতা লিটনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের আলামত ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করেছে। তবে জামায়াত কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা প্রচারণায় বাধার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। প্রশাসনের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে আসন্ন সময়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে।


