চোরাগোপ্তা পথে ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ নেই—কিশোরগঞ্জে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

চোরাগোপ্তা পথে ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ নেই—কিশোরগঞ্জে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চোরাগোপ্তা পথে ক্ষমতা গ্রহণের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনগণ অতীতের রাজনীতির ধারা থেকে সরে আসতে চায়। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম নতুন ধারার রাজনীতি প্রত্যাশা করছে। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান প্রজন্ম এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আসন্ন নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানানো হবে। তবে নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে কোনোভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র বৈধ পথ হচ্ছে জনগণের ভোট।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা রেখে তাদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে দলটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে আইন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের চেষ্টা করা হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নদী সংস্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতে, নদী ব্যবস্থার সঠিক সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা কৃষি, যোগাযোগ এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে যেসব জেলা উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে তুলনামূলকভাবে বঞ্চিত হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সেসব অঞ্চলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তার বক্তব্যে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় একটি গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত রয়েছে বলে তার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি।

প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তার দল প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো বিশেষ সুবিধা বা আনুকূল্য প্রত্যাশা করে না। তবে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হলে তার দল তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। জনসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলে ধরছে দলগুলো। জামায়াতে ইসলামীর এ ধরনের বক্তব্যও নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য নির্বাচনী পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ