রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ওই আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’র পক্ষে কাজ করা কর্মী ও সমর্থকদের নিয়মিতভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। দিনের বেলায় ব্যানার টাঙানো হলেও রাতের আঁধারে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় স্থানীয়ভাবে জানা থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছেন না। তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে তার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-১১ আসনে স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব ঘটনার বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার মতে, রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে যদি এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করে, তাহলে দেশের অন্যান্য আসনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ড. এম এ কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে গোপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রিট আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন। তিনি দাবি করেন, প্রার্থিতা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত এবং নির্বাচন কমিশন ও আদালতের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ও বিকেলে রামপুরার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। সকাল ১১টার দিকে তিনি পূর্ব রামপুরার কুঞ্জবন এলাকা এবং হাই স্কুল রোডসংলগ্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার নির্বাচনী কর্মসূচি তুলে ধরেন। দুপুর ২টার দিকে তিনি একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, যেখানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পূর্ব রামপুরার ভূঁইয়া গলি, ব্যাংক কলোনি ও তিতাস রোড এলাকা ঘুরে রামপুরা টিভি সেন্টার পর্যন্ত গণসংযোগ করেন তিনি। প্রচারণাকালে তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কর্মী-সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেওয়া, ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ বা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা-১১ আসনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণ করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


