আইন আদালত ডেস্ক
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে উক্ত আসনে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনগত কোনো বাধা রইল না।
মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে টেকসই প্রমাণিত না হওয়ায় রিট আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম নাকি দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি গোপন করেছেন এবং প্রার্থিতা দাখিলের সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। এ কারণে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করা হয়।
রিট আবেদনে নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমকে বিবাদী করা হয়। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, সংবিধান ও প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। এ ধরনের তথ্য গোপন করে মনোনয়ন গ্রহণ করলে তা বাতিলযোগ্য।
অন্যদিকে ড. এম এ কাইয়ুমের পক্ষে আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আইন অনুযায়ী সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা হয়েছে। তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, আবেদনকারীর অভিযোগ সমর্থনে গ্রহণযোগ্য দলিল বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
শুনানি শেষে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে রিট আবেদন খারিজ করেন। আদালতের আদেশে প্রার্থিতার বৈধতা প্রশ্নে কোনো অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি নির্বাচনী প্রচার ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবেন।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা ও মনোনয়ন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা রিট আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকরা নির্বাচনী সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পান। তবে অভিযোগ প্রমাণে সুস্পষ্ট তথ্য ও দলিল উপস্থাপন না হলে আদালত সাধারণত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনকারী চাইলে আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হওয়ার আইনগত সুযোগ রয়েছে। তবে আপিল না হলে হাইকোর্টের এ আদেশই কার্যকর থাকবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিত নিয়মে এগিয়ে যাবে।
ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে এই রিট নিষ্পত্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনী অনিশ্চয়তা অনেকাংশে দূর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে উক্ত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে নির্ধারিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণেই।


