নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতের সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফের বিএনপিতে যোগদান

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতের সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফের বিএনপিতে যোগদান

রাজনীতি ডেস্ক

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হন। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন, নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যোগদান অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক বিষয় ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

মাওলানা মো. ইউসুফ সুবর্ণচর উপজেলার আমানউল্লাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

যোগদান অনুষ্ঠানে মাওলানা মো. ইউসুফ তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মপন্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। বিশেষ করে ক্ষমতা অর্জনকে কেন্দ্র করে দলটির অবস্থান ও ঘোষিত লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। এসব বিবেচনায় তিনি জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

বিএনপি নেতারা জানান, দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল বলেন, বিএনপি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবসময় উদার ও গণতান্ত্রিক শক্তির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়। তার মতে, মাওলানা মো. ইউসুফের মতো একজন রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ ও সচেতন ব্যক্তির যোগদান স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও কৌশলগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এক দল থেকে অন্য দলে যোগদানের ঘটনা বাড়ছে। নোয়াখালীর মতো এলাকায় এসব পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা কোনো নেতার দল পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, নতুন সদস্যদের নিয়ে দলীয় কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক বৈঠক ও কর্মসূচি জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন ও পুরোনো নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতেও এ ধরনের পরিবর্তন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, মাওলানা মো. ইউসুফের বিএনপিতে যোগদান নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ